নিবিড় আত্মামন্থনের স্থিতাবস্থায় অঙ্কুরোদগম হয় বহুবিধ ইমেজের, অর্থহীন-অর্থবোধকতার; যেখানে প্রত্নপদচিহ্নের ফসিল, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া শব্দের আর্তচিৎকার, অর্থ বসে যাওয়া বাক্যের দগদগে ক্ষত, অব্যবহৃত-পরিত্যক্ত-অপ্রচলিত পন্থার বৈঠকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে আসে ভূমিগত অস্তিত্বের অবিনশ্বর বিন্যাসে প্রোথিত কুত্রাপি।
'কুত্রাপি' স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ উত্তরাধুনিক বাংলা কবিতা। প্রাচীন এবং আধুনিক কবিতার সাথে এব সাদৃশ্য অতি সামান্য। কাজেই পুরাতন স্বাদে অভ্যন্ত পাঠক 'কুত্রাপি'র প্রথম পাঠে হোচট খাবেন। এখানে ছন্দ-ব্যঙ্গনা-মাত্রা ব্যবহারের ধরন, ভাষা ও শব্দশক্তির উন্মোচন-প্রয়াস, লেখকের একচ্ছত্র আধিপত্য অস্বীকার, অর্থকে নির্দিষ্ট খোপ থেকে বের করে দিগবিদিক ছড়িয়ে দেওয়া, পড়ক্তিবিন্যাসের স্বতন্ত্র পদ্ধতি, নামকরণের নির্যাতন প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্ত খোলা সমাপ্তির রীতি, একক বিষয় থেকে বের হয়ে বহুমাত্রিকভাকে আশ্রয় করা ইত্যাদি বিবিধ কারণে কেন্দ্রমুখীতার ধারণা প্রচন্ড চাপে থাকে। কেন্দ্র তৈরি করার বিষয়ে লেখকের সচেতন প্রয়াসের পরেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটি সম্ভব হয় না এব বৈশিষ্ট্যগত কারণে। আদি-অন্ত-মধ্য ও ভাবছন্দের ব্যবহার, অনুপ্রাস-ধমক-উৎপ্রেক্ষা-রূপকের বিন্যাসে এটিকে পরিকল্পিত বিকেন্দ্রীকরণ না বলে বলা যায় বৈশিষ্ট্যগত বিকেন্দ্রীকরণ; ফলে 'কুত্রাপি' উত্তরাধুনিক হলেও সেটি বঙ্গীয় বৈশিষ্ট্যে স্বাঅ্যমণ্ডিত।
তাৎক্ষণিক এ্যাটিফিকেশনের তুলতুলে বোষকে নাকচ করে ভাব-ভাবনার নান্দনিক প্রত্ন-সচেতনতার দীর্ঘ ভবিষ্যৎ ইতিহাস তৈরি করাই এর প্রধানতম কাজ। কুত্রাপি অবিনশ্বর স্থানিক প্রাইমর্ডিয়াল ইমেজের প্রত্নতাত্ত্বিক গভীরতা নিরূপণের মাধ্যমে সময়ের বহুস্তরীয় আকাঙ্ক্ষাকে আলোকিত করে কবিতার অবিনশ্বরতার অভিযাত্রী।